জনসচেতনতা

হ্যালো ডাঃ বাবু

#করোনভাইরাস_নিরাময়ের_জন্য_প্লাজমা_কৌশল_কী?

প্লাজমা থেরাপি কি এবং প্লাজমা থেরাপিতে কি করা হয়?

যে রোগীরা করোনা সংক্রমণ থেকে সেরে উঠছে বা সদ্য সেরে উঠেছে, তাদের দেহ থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করে অন্য আক্রান্ত রোগীর শরীরে দেওয়া হয়।

এই প্লাজমা করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কিভাবে কাজ করে?

বাইরে থেকে কোনো প্যাথোজেন শরীরে ঢুকলে আমাদের প্রতিরক্ষা শক্তি তার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। এই অ্যান্টিবডি সেই প্যাথোজেনকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে, এবং রক্তের প্লাজমায় ভেসে বেড়ায়।

যারা করোনাভাইরাসে ভুগে সুস্থ হয়ে উঠেছেন তাদের রক্ত থেকে এই প্লাজমা নিলে তাতে অ্যান্টিবডি পাওয়া যায়। সেই প্লাজমা অন্য রুগীর শরীরে ইনজেকশন দিয়ে দিলে অ্যান্টিবডি তার শরীরের করোনাভাইরাসকে আক্রমণ করে নষ্ট করে দেয়। ইনজেকশন দেওয়ার আগে প্লাজমাতে ভাইরাস-নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি আছে কিনা সেটা স্ক্রিন করে দেখে নেওয়া হয়।

যে কোভিড রুগীরা কোনো লক্ষণ ছাড়াই বা খুব অল্প ভুগে সুস্থ হয়ে উঠেছে তাদের শরীরে এই অ্যান্টিবডি তাড়াতাড়ি তৈরি হয় (তাই তারা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যায়); যারা বেশি সিরিয়াস হয়ে ওঠে তাদের অ্যান্টিবডি তৈরি হতে দেরি লাগে, বা হয়ই না।

এই অ্যান্টিবডি সুস্থ হওয়ার পর বেশ কিছু মাস বা বছর ধরে রক্তে থেকে যায়।

একজন কনভ্যালাসেন্ট রোগী সপ্তাহে ১-২ বার প্লাজমা ডোনেট করতে পারেন। প্লাজমা নিয়ে RBC আবার শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এই প্লাজমা থেরাপি কতটা কার্যকর?

অতীতে স্প্যানিশ ফ্লু, সার্স ইত্যাদি মহামারীতে এই প্লাজমা থেরাপি সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। হাম, নিউমনিয়াতে অনেকসময় (আগে, এখন অতটা না) এটি ব্যবহার করা হয়।

এখন আমেরিকা, চীন, ইউ কে, দক্ষিণ কোরিয়া এবং এখন ভারতে এর উপর পরীক্ষা শুরু হয়েছে। কয়েকটি ছোট ট্রায়ালে সাফল্য পাওয়া গেছে কিন্তু এখনই বলা সম্ভব না এর কার্যকারিতা কতখানি-কারণ অ্যান্টিবডি কার শরীরে কতখানি তৈরি হচ্ছে, কতদিন থাকছে এবং তা করোনাভাইরাসকে ধ্বংস করতে কতটা সফল সেটি এখনও মাপা সম্পূর্ণ হয়নি। এর সাথে এই থেরাপি রুগীর জন্য কতটা নিরাপদ সেটিও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

আশা করা যায় এটি ভবিষ্যতে আমাদের অনেক কাজে আসবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close