প্রেমের গল্প

প্রথম দেখায় !!

পারিবারিক ভাবে বিয়ে ঠিক হওয়া, একে অপরকে জানাশোনা খুব একটা নতুন কিছু না। প্রায় প্রতিটি মেয়েরই স্বপ্ন থাকে স্বপ্ন পুরুষের! কিন্তু যখন সেই স্বপ্ন পুরুষটি স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু হয়। তাহলে সেটা হয়ে যায় পরিপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ। কিন্তু দীপার ক্ষেত্রে সেরকম না।

দীপা দেখতে অতি সুন্দরী না, কিংবা চেহারায় আহামরি কোন ভাব নেই আকৃষ্ট হওয়ার মত। তবে চেহারাটা মায়াবী। মায়াবী চেহারার কারণে অনেক ছেলেই দিওয়ানা হতো দীপার প্রেমে। কিন্তু দীপা চাইতো এমন একটা পুরুষ আসুক যাকে প্রথম দেখাতেই ভালো লাগবে, তারপর ইচ্ছে মত ভালোবাসবে!

পড়াশোনা শেষ হলে কর্পোরেট জবে ঢুকে যায়। কিন্তু বাড়ি থেকে দীপাকে বিয়ে দিতে তোড়জোড় লেগে যায়। অনেক সুদর্শন স্মার্ট ছেলেকে রিজেক্ট করেছে দীপা, সামান্য সামান্য কারনে। যেমন ছেলেটা সুদর্শন হলেও মেসেজ লিখে মুরাদ টাকলা ভাষায়। হাটার সময় ঘাড় নিচু হয়ে যায়। বাড়ির মানুষ দীপার এই ছোট খাটো ক্ষুৎ ধরার জন্য নাজেহাল।

এবারো সুদর্শন, স্মার্ট মাল্টিন্যাশনালে জব করে এমন ছেলের সাথে বিয়ের প্রপোজাল এসেছে। আজকে মিট করার কথা। রেস্টুরেন্টে ঢুকে দীপা দেখতে পেলো ছেলেটা বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে। দীপা গিয়ে ব্যাগটা পাশে রেখে ধপ করে বসে পড়লো। ভাবখানা এমন যেন ও দ্রুত আসতে গিয়ে হাঁপিয়ে গেছে। অথচ দীপা ইচ্ছে করেই টুকটুক করে আসছিল। ছেলেটার ধৈর্য কেমন পরীক্ষা করতে। যদি অধৈর্য ছেলে হয় তাহলে বারবার ঘড়ির দিকে তাকাবে। কারণ ধৈর্যশীল না হলে দীপাকে সহ্য করা টাফ।
প্রথম পরীক্ষাতেই ছেলেটা ফেল। দীপার মনটাই খারাপ হয়ে গেল।

“দীপা বসার পর ছেলেটা বললো, হাই আমি সজল!”
দীপা মনে মনে বললো, হ্যা তা তো বোঝাই যাচ্ছে। আর একটু হলে নিজের চোখে স্ব জল দেখতে পাবি।
“সজল বললো, আপনি কী নিবেন?”
“জাস্ট কফি বলে দীপা মৃদু হাসি দিল!”
সজল কফি অর্ডার করে উশখুশ করছে।
“দীপা বললো, কিছু বলবেন?”
“না মানে আমি কিছু কথা বলতাম।”

“দীপা ফিক করে হেসে বললো, কিছু কথা বলার জন্যই তো এসেছি। আপনার কিছু কথা শুরু করুন।”
“আসলে আমি আমার মায়ের পছন্দে বিয়ে করতে যাচ্ছি। আমার থেকে বেশি কিছু আশা করা বোকামি হবে। যে আমাকে বিয়ে করবে সে সুখী হবে না। রাতে আমি নাক ডাকি। আই থিংক আপনি এমন ভুল করবেন না নিশ্চয়ই? তাছাড়া তথাকথিত স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক বজায় রাখতেও সমস্যা হতে পারে। তো আপনি যদি আপনার পক্ষ থেকে না করে দিতেন? আপনি দেখতে বেশ আছেন। যে কেউ আপনাকে পছন্দ করবে তবে একটু বোকা লাগছে আমার কাছে। বাট আপনি আমার মায়ের খুব পছন্দ!”
দীপা স্বপ্নেও ভাবেনি এমনটা হবে। এতদিন দীপা সবার ক্ষুৎ ধরেছে। আর আজ মুখের উপর এসব শুনতে হচ্ছে। হাতী গর্তে পড়লে পীপিলিকাও নাকি লাথি মারে, দীপার এখন সেই অবস্থা। কিছুটা অপমান, কিছুটা লজ্জা ভর করেছে। ভাবে কী লোকটা নিজেকে? দীপা কোনমতে ঢোক গিলে বললো, “আপনার কী অন্য কোথাও রিলেশন আছে? যদি থাকে তাহলে আমি হেল্প করতে পারি?”
“আসলে আপনি না করে দিলেই আমার হেল্প হবে।”

বাসায় যাওয়ার পর একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসলো, মেয়ে কণ্ঠ। বললো আমি রিয়া, আগামী কাল আপনার সাথে দেখা করতে চাই। সজল সম্পর্কে কিছু কথা বলতাম।
মেয়েটা দেখতে অসম্ভব সুন্দরী। সম্ভবত সজলের গার্লফ্রেন্ড হবে। রাগে দীপার শরীর জ্বলে যাচ্ছে এজন্যই মুখের উপর বলেছে আপনি দেখতে বেশ আছেন। আপনি আমার মায়ের পছন্দ! বাই এনি চান্স মেয়েটাও যদি আমার কাছে হেল্প চায় তাহলে সজল সম্পর্কে কয়েকটা বাজে বাজে কথা শুনিয়ে দিব। সজলের মত হাঁদারামের সাথে কে বিয়ে করবে? আমি তো একদিন দেখেই বুঝেছি। এতোদিনেও আপনি বুঝেননি কেন? দীপা মনে মনে বললো।
“দীপা আমি কিছু বলছি কোথায় হারিয়ে গেলে? আই মিন কী ভাবছেন?”

ফোনের চেয়ে বস্তবে মেয়েটার কণ্ঠ আরও মিহি দীপা নিজেই মুগ্ধ হয়ে গেলো।
দীপা লাজুক হাসি দিয়ে বললো, জি আপা বলেন আমি শুনছি। আর হ্যা আপনি আমাকে তুমি করেই বলতে পারেন কোন সমস্যা নেই।”
“রিয়া বললো, সজল আমার কাজিন। আমার মায়ের চাচাতো বোনের ছেলে। আমরা ক্লাসমেটও। সজল আমাকে ছোটবেলা থেকেই পছন্দ করতো। আস্তে আস্তে আমাকে ভালোবেসে ফেলে। তবে এক তরফা। কারণ আমি ওকে ভাইয়ের চোখে দেখতাম। একসময় আমি অন্য একজনকে ভালোবেসে ফেলি। পরবর্তীতে তার সাথেই আমার বিয়ে হয়। কিন্তু সজল প্রতিজ্ঞা করে ও কোনদিন বিয়ে করবে না। মেয়েরা নাকি ধোঁকাবাজ হয়। অথচ আমি ওর সাথে কোন ধোঁকাই করিনি। তবে এটা সত্য সজলের ভালোবাসা জেনুইন ছিল।
ডিপার্টমেন্টে কিছু বন্ধু থাকে দেখো একেবারে সহজ সরল আর চাপা স্বভাবের। সজল ঠিক ওরকম। তবে খুব ভালো ছেলে।
আন্টি যেখানেই মেয়ে দেখে সজল মেয়ের সাথে দেখা করে বিয়ে ভেঙে দেয়। আর আন্টিকে বলে আমি কী করবো মেয়েটা পছন্দ না করলে? তাই এবার আন্টি আমাকে বললো, আমি যেন তোমাকে সব খুলে বলি। তোমার যদি সজলকে পছন্দ হয় তাহলে শুধু ওর কথা শুনে না করো না প্লিজ। পছন্দ না হলে, না করতে পারো।
দীপার কেন জানি হাঁদারাম ছেলেটাকে প্রথমে দেখেই ভালো লেগেছিল। যদিও প্রথম পরীক্ষায় ফেল। তাতে কী; ভালো তো লেগেছে। নাক ডাকার ব্যাপাটা ওর মায়ের থেকে জানা গেছে, নাক নাকি ডাকে না। অবশ্য ছেলের স্বার্থে মা সত্যি টা নাও বলতে পারে। সমস্যা নেই ডাকলে, সে ব্যবস্থাও করা যাবে। কিন্তু সজল বলেছে দীপা ওর মায়ের পছন্দ তারমানে ওর পছন্দ না? দীপা এটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিল। সিরিয়ালে যেমন আস্তে আস্তে নায়কের মন জয় করতে হয়। রিয়েল লাইফে কেমন হয় সেটা একবার ট্রাই করে যায়! আসলে সজলকে দীপার ভালো লেগেছে, এজন্য এই জীবন বাজি।
বাসর ঘরে সজল মুখ ভার করে বসে আছে।

“দীপা সজলের সামনে বসে বললো, এমন গোমড়ামুখে বসে আছেন কেন? আমাকে তো আপনার পছন্দ না, তাহলে বিয়ে করলেন কেন? ”
“সজল মুখ ঘুরিয়ে বললো, আমি তো আপনার কাছে হেল্প চেয়েছিলাম, আপনি তো তার উল্টোটা করলেন।”
“তাই বুঝি ঠিক আছে কয়েকদিন আমরা স্বামী স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করে তারপর ডিভোর্স নিতে যাবো?”
“সজল এবার সরু চোখে তাকিয়ে বললো, একদম ও কথা মুখেও আনবেন না। ভুল যখন করেই ফেলছেন এখন থেকে এই গোমড়ামুখোকে টলারেট করতে হবে।”

“কেন শুনি?”
“কারন আমি মুখে আপনার কাছে যা হেল্প চেয়েছিলাম, কিন্তু মনে মনে চাইছিলাম তার উল্টো। প্রথম দিনেই এই মায়াবী মুখখানা দেখে মায়ায় পড়ে গেছিলাম। কিন্তু আমি যে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম বিয়ে করবো না, তার বরখেলাপ হয়ে যেত! তাই হেল্প চেয়েছিলাম। কিন্তু কৌশলে আপনাকে রাগিয়ে দেই যাতে আপনি উল্টোটা করেন।”
“ও আচ্ছা তাহলে এরকম কত মেয়ে দেখে মুখে হেল্প চেয়েছেন? আর মনে মনে রাজি হতে বলেছেন শুনি?”
“সজল মাথা চুলকে বললো, না মানে তুমিই প্রথম!”
“তা তো চাঁদ মুখখানা দেখেই বুঝতে পারছি।”
“সজল বললো, ভাগ্যিস তুমি রিস্ক নিয়েছ বলে আমার রক্ষা।”

“ভাগ্যিস আপনি আমাকে সেদিন রাগিয়ে দিয়েছিলেন। নয়তো অন্যান্য সুদর্শনদের মতো আপনাকেও বিদায় করতাম।”
“সজল দীপাকে পাশে বসিয়ে বললো, তা করতেই পারতে না। কারণ প্রথম দেখেই তুমি আমার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলে। রাইট?”
“দীপা মুখ বাঁকা করে বললো, জি রাইট! হ্যাপি?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close